Saturday, March 9, 2013

হার্ট এ্যাটাক

উপসর্গহীন হার্ট এ্যাটাক

হার্ট এট্যাক তথা এমআই (Myocardial Infraction) সাধারণত বেশ কিছু উপসর্গসহ দেখা দেয়। যার মধ্যে প্রধানত রয়েছে বুকে ব্যথা হওয়া, বুকে চাপ লাগা, অস্থিরতা বোধ করা, হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। বুকের ব্যথা কখনো কখনো বাম ঘাড়ের দিকে বা বাম চোয়ালে যেতে পারে, শুধু তাই না, বাম বাহুর ভিতরের দিকেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এসব উপসর্গ দেখে আমরা দ্রুত বুঝে যাই কারো এম আই হলে, এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আর এমন অবস্থায় বাসায় বা অন্য কোথাও কোনো মানুষকে পাওয়া গেলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, হাসপাতাল দূরে হলে এস্পিরিন ৪টা ট্যাবলেট একসাথে খাইয়ে দিতে হবে। পারলে জিহবার নিচে নাইট্রোকার্ড বা নাইট্রোসোল স্প্রে করে দিতে হবে!!

সবই ঠিক আছে, কিন্তু যদি এমন কিছু হয় যখন হার্ট এট্যাকের কিছুই রোগী বুঝতে পারবে না, কিন্তু হার্ট এট্যাক হয়ে হঠাৎ খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে পারে এমনকি জীবনাবসানও ঘটে যেতে পারে!

এমনটা হওয়া অসম্ভব নয়! এমন অবস্থা হওয়াকেই বলে সাইলেন্ট এমআই বা সাইলেন্ট হার্ট এট্যাক!

সাইলেন্ট কেন? কারণ রোগী এই সময় কিছু বুঝতে পারে না, আর পারলেও খুব অল্প বা সাধারণ ব্যথা হিসেবে মনে করে তেমন পাত্তা দেয় না!

সবার হতে পারে? না! সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রধানত এমনটা দেখা যায়। তবে কি যেকোনো ডায়াবেটিস রোগীর এমনটা হতে পারে? না, সেটাও নয়। সাধারণত যাদের শরীরে ডায়াবেটিস এর জন্য নানা ধরনের কমপ্লিকেশান তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে!

কেন হয়? ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী হওয়ার কারণে শরীরের বোধ শক্তি অনেকটাই কমে আসে ফলে হার্ট এট্যাকের সময় তীব্র ব্যথা হলেও মানুষ সেটা বুঝতে পারে না সহজে।

চিকিৎসা-চিকিৎসার ব্যাপারে সাধারণ হার্ট এট্যাক আর সাইলেন্ট হার্ট এট্যাক এর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

সচেতন থাকাটা খুবই প্রয়োজন-সাইলেন্ট এম আই থেকে দূরে থাকতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুব প্রয়োজনীয়।

কি করা উচিতঃ

০ ডায়াবেটিস এর কম্পলিকেশান যার শরীরে তৈরি হবে তাকে সব সময় সাবধানে থাকতে হবে।

০ নিয়মিত কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা ডায়াবেটোলোজিস্ট এর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

০ বুকে অল্প ব্যথা দেখা দিলে কিংবা অস্থিরতা বোধ করতে (যেটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া নয়) দ্রুত হাসাপাতালে যেতে হবে!

অস্থিরতা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য নাকি সাইলেন্ট এম আই এর জন্য কিভাবে বুঝবে?

হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর জন্য যখন অস্থিরতা হয়, তখন গ্লুকোজ বা চিনি কিংবা অন্য কোনো খাবার খেলে সেটা দ্রুতই ঠিক হয়ে আসবে কিন্তু সাইলেন্ট এম আই এর ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর ঘরে গ্লুকোমিটার থাকলে সহজেই এটা বোঝা যাবে!

সাইলেন্ট এম আই এর ব্যাপারে নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করুন!! -ইন্টারনেট                                                                                     






  হঠাত্ হৃিপণ্ড অচল হলে...

নানাবিধ কারণে হঠাত্ হৃিপণ্ডের কাজ বন্ধ হয়ে মানুষ সংজ্ঞাহীন ্ও মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ভেন্টিকুলার কনট্রাকশন বা নিলয়ের সংকোচন চাপ কিছু সময়ের জন্য যদি বন্ধ হয়ে যায় অথবা অত্যন্ত দু্রতভাবে কাজ করে তবে দেহের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে । ৫-৭ মিনিটের মধ্যেই চিকিত্সা শুরু না হলে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। কারণ মস্তিষ্কের কোষকলায় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে না পেরে কোষকলা নষ্ট হয়ে যায়।
িকিত্সা ও করণীয়
—খুবই জরুরিভাবে হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে, ৩-৫ মিনিটের মধ্যে।
—রোগীর হৃিপণ্ডের রক্ত চলাচলের জন্য রোগীকে শক্ত বিছানায় শুইয়ে পা দুটি বিছানা থেকে একটু ওপরে রাখতে হবে।
—বুকের বাম পাঁজরের কাছে দুই হাত একত্রিত করে অর্থাত্ হৃিপণ্ড বরাবর চাপ দিতে হবে যেন চাপের সঙ্গে বুকের বাতা (জরন) ওঠানামা করে।
—শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধার জন্য মুখ থেকে মুখে শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে হবে।
—বুকে চাপ দেয়ার সময় যিনি চাপ দেবেন তার হাত ভাঁজ হওয়া চলবে না। শুধু চাপ দেয়ার মানুষটির কাঁধের নড়াচড়া দেখা যাবে। প্রতি মিনিটে ৬০-৮০ বার এভাবে দিতে হবে। একে কার্ডিয়াক ম্যাসেজ বলে।

রোজি আক্তার
চট্টগ্রাম

No comments:

Post a Comment