মাথাব্যথা
বিশ্রাম নিন। আলো ও শব্দ থেকে দূরে থাকুন। ব্যথা দূর করে এ রকম কোনো মলম মাথার দুই পাশে ও কানের পেছনে লাগিয়ে হালকা ম্যাসাজও করতে পারেন। এছাড়া ঠাণ্ডা জলপট্টিতেও আরাম পেতে পারেন।
এছাড়াও আধা চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাবেন।
তুলসীপাতার রস ১ থেকে ২ চা চামচের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ ফোঁটা মধু দিনে তিন-চারবার খান।
ধুতরা পাতা দুই থেকে তিনটি বেটে একটু গরম করে লাগালে উপকার পাবেন। আকন্দগাছের পাতা দুই থেকে তিনটি একটু গরম করে মাথায় সেক দিতে পারেন।
আধকপালি
আলো ও শব্দময় পরিবেশে থাকবেন না।
আধা কাপ গরম দুধ ও আধা চা চামচ গজপিস দিয়ে সেক দিলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন। লবঙ্গ ও দারুচিনি চূর্ণ সমপরিমাণে পানের রসে মিশিয়েও লাগাতে পারেন।
মাথায় আঘাত পেলে
আঘাতের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফের সেক দিন অন্তত পনেরো মিনিট। রক্তপাত হলে জায়গাটুকু কিছুক্ষণ চেপে রেখে ব্যান্ডেজ করে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করুন। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা বমি করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখাবেন।
এ ধরনের রোগী কতটা গুরুতর তা বাইরে থেকে শুরুতেই বোঝা সম্ভব নয়।
মাইগ্রেনের চিকিত্সা ও খুঁটিনাটি
ডা. এএম শাহজাহান
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কয়েকটি ব্যাপার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা।
মাইগ্রেন কি?
মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যে কোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত আকার ধারণ করে। রক্তে সেরোটোনিন বা ফাইব এইচটির মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে সে গুলো মাথাব্যথার প্রারম্ভে স্ফীত হয়ে ফুলে যায়। এছাড়াও মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।
মাইগ্রেন কেন এবং কাদের বেশি হয়?
মাইগ্রেন কেন হয় তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোন কারণে হতে পারে। এটি সাধারণত পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়। পুরুষ ও মহিলাদের এই অনুপাত ১:৫। মহিলাদের মাসিকের সময় এই রোগটি বেশি দেখা দেয়। এছাড়াও মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে ত্বরান্বিত করে।
উপসর্গ
মাইগ্রেন বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু হয় এবং মাঝ বয়স পর্যন্ত কিছু দিন বা কয়েক মাস পর পর হতে পারে। মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মাইগ্রেনের প্রকারভেদ
মাইগ্রেনকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন : ক্লাসিক্যাল, অপথালমোজিক, ব্যাসিলার আর্টারি, হেমিপ্লেজিক, মাইগ্রেন ইত্যাদি।
ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন : প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্তায় রোগী চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও চোখে সর্ষে ফুল দেখে। রোগীর হাত, পা, মুখের চার পাশে ঝিনঝিনে অনুভূতিসহ শরীরের এক পাশে দুর্বলতা ও অবশভাব হতে পারে। তারপর শুরু হয় মাথাব্যথা, যা মাথার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ড দপদপে ব্যথা, প্রচুর ঘাম বের হওয়াসহ বমি কিংবা বমি বমিভাব রোগীকে কাহিল করে ফেলে।
অপথালমোজিক মাইগ্রেন : চোখের উপরি ভাগ থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যথাসহ রোগীর দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগী আলো একদম সহ্য করতে পারে না। অন্ধকার ঘরে থাকতেই রোগী পছন্দ করে।
ব্যাসিলার আর্টারি মাইগ্রেন : সাধারণত মাথার পেছন থেকে এ ব্যথা শুরু হয় এবং সঙ্গে মাথাঘোরাভাব থাকতে পারে।
হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন : ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শরীর অবশভাব থাকে। এটি সারতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
মূলত রোগীর ইতিহাস থেকেই চিকিত্সকরা মাইগ্রেন শনাক্ত করে থাকেন। এছাড়া চোখ পরীক্ষা করতে হবে। সাইনাসের জন্য প্রয়োজনীয় এক্সরে করতে হবে। বারবার এক জায়গায় ব্যথা হলে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করাতে হবে।
চিকিত্সা ও করণীয়
চিকিত্সা রোগীর ইতিহাস ও রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের দেশে বর্তমানে মাইগ্রেনের চিকিত্সায় বেশ কিছু কার্যকর ওষুধ বাজারে এসেছে, তার মধ্যে ফ্লুনারিজিন, এমট্রিপটেইলিন, পিজোটিফেন, রিজাট্রিপটান, টলফেনামিক এসিড ইত্যাদি ওষুধ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
শেষ কথা
গ্রামগঞ্জে অনেক মাথাব্যথার রোগীকে মাথায় সুতা পেঁচিয়ে তার সঙ্গে গাছের শিকড় বা তাবিজ বেঁধে রাখতে দেখা যায়। তাদের ধারণা, তাদের বান মারা হয়েছে। অথচ এসব ভ্রান্ত ধারণা। তাই এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো পরিহার করে একজন চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন।
লেখক : চিকিত্সক, মা মেডিকেল হল
নতুন বাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
ই-মেইল : drshahjahanctg@gmail.com
বিশ্রাম নিন। আলো ও শব্দ থেকে দূরে থাকুন। ব্যথা দূর করে এ রকম কোনো মলম মাথার দুই পাশে ও কানের পেছনে লাগিয়ে হালকা ম্যাসাজও করতে পারেন। এছাড়া ঠাণ্ডা জলপট্টিতেও আরাম পেতে পারেন।
এছাড়াও আধা চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাবেন।
তুলসীপাতার রস ১ থেকে ২ চা চামচের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ ফোঁটা মধু দিনে তিন-চারবার খান।
ধুতরা পাতা দুই থেকে তিনটি বেটে একটু গরম করে লাগালে উপকার পাবেন। আকন্দগাছের পাতা দুই থেকে তিনটি একটু গরম করে মাথায় সেক দিতে পারেন।
আধকপালি
আলো ও শব্দময় পরিবেশে থাকবেন না।
আধা কাপ গরম দুধ ও আধা চা চামচ গজপিস দিয়ে সেক দিলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন। লবঙ্গ ও দারুচিনি চূর্ণ সমপরিমাণে পানের রসে মিশিয়েও লাগাতে পারেন।
মাথায় আঘাত পেলে
আঘাতের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফের সেক দিন অন্তত পনেরো মিনিট। রক্তপাত হলে জায়গাটুকু কিছুক্ষণ চেপে রেখে ব্যান্ডেজ করে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করুন। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা বমি করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখাবেন।
এ ধরনের রোগী কতটা গুরুতর তা বাইরে থেকে শুরুতেই বোঝা সম্ভব নয়।
মাইগ্রেনের চিকিত্সা ও খুঁটিনাটি
ডা. এএম শাহজাহান
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কয়েকটি ব্যাপার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা।
মাইগ্রেন কি?
মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যে কোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত আকার ধারণ করে। রক্তে সেরোটোনিন বা ফাইব এইচটির মাত্রা পরিবর্তিত হলে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মস্তিষ্কের বহিরাবরণে যে ধমনিগুলো আছে সে গুলো মাথাব্যথার প্রারম্ভে স্ফীত হয়ে ফুলে যায়। এছাড়াও মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম হতে পারে।
মাইগ্রেন কেন এবং কাদের বেশি হয়?
মাইগ্রেন কেন হয় তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোন কারণে হতে পারে। এটি সাধারণত পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়। পুরুষ ও মহিলাদের এই অনুপাত ১:৫। মহিলাদের মাসিকের সময় এই রোগটি বেশি দেখা দেয়। এছাড়াও মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে ত্বরান্বিত করে।
উপসর্গ
মাইগ্রেন বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু হয় এবং মাঝ বয়স পর্যন্ত কিছু দিন বা কয়েক মাস পর পর হতে পারে। মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মাইগ্রেনের প্রকারভেদ
মাইগ্রেনকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন : ক্লাসিক্যাল, অপথালমোজিক, ব্যাসিলার আর্টারি, হেমিপ্লেজিক, মাইগ্রেন ইত্যাদি।
ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন : প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্তায় রোগী চোখের সামনে আলোর ঝলকানি ও চোখে সর্ষে ফুল দেখে। রোগীর হাত, পা, মুখের চার পাশে ঝিনঝিনে অনুভূতিসহ শরীরের এক পাশে দুর্বলতা ও অবশভাব হতে পারে। তারপর শুরু হয় মাথাব্যথা, যা মাথার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে পুরো স্থানেই বিস্তৃত হয়। প্রচণ্ড দপদপে ব্যথা, প্রচুর ঘাম বের হওয়াসহ বমি কিংবা বমি বমিভাব রোগীকে কাহিল করে ফেলে।
অপথালমোজিক মাইগ্রেন : চোখের উপরি ভাগ থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যথাসহ রোগীর দৃষ্টি বিভ্রম হতে পারে। এমতাবস্থায় রোগী আলো একদম সহ্য করতে পারে না। অন্ধকার ঘরে থাকতেই রোগী পছন্দ করে।
ব্যাসিলার আর্টারি মাইগ্রেন : সাধারণত মাথার পেছন থেকে এ ব্যথা শুরু হয় এবং সঙ্গে মাথাঘোরাভাব থাকতে পারে।
হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন : ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শরীর অবশভাব থাকে। এটি সারতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
মূলত রোগীর ইতিহাস থেকেই চিকিত্সকরা মাইগ্রেন শনাক্ত করে থাকেন। এছাড়া চোখ পরীক্ষা করতে হবে। সাইনাসের জন্য প্রয়োজনীয় এক্সরে করতে হবে। বারবার এক জায়গায় ব্যথা হলে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করাতে হবে।
চিকিত্সা ও করণীয়
চিকিত্সা রোগীর ইতিহাস ও রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। আমাদের দেশে বর্তমানে মাইগ্রেনের চিকিত্সায় বেশ কিছু কার্যকর ওষুধ বাজারে এসেছে, তার মধ্যে ফ্লুনারিজিন, এমট্রিপটেইলিন, পিজোটিফেন, রিজাট্রিপটান, টলফেনামিক এসিড ইত্যাদি ওষুধ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
শেষ কথা
গ্রামগঞ্জে অনেক মাথাব্যথার রোগীকে মাথায় সুতা পেঁচিয়ে তার সঙ্গে গাছের শিকড় বা তাবিজ বেঁধে রাখতে দেখা যায়। তাদের ধারণা, তাদের বান মারা হয়েছে। অথচ এসব ভ্রান্ত ধারণা। তাই এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো পরিহার করে একজন চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন।
লেখক : চিকিত্সক, মা মেডিকেল হল
নতুন বাজার, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
ই-মেইল : drshahjahanctg@gmail.com
No comments:
Post a Comment