মানসিক চাপ কমানোর খাদ্য
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ শরীরের জন্য মোটেও হিতকর নয়। প্রবল মানসিক চাপ থেকে সাধারণ ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। আর এই মানসিক চাপ, অবসাদ কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে নানা উপায় রয়েছে। তন্মধ্যে যথাযথ ডায়েট নির্বাচন করেও সমস্যা লাঘব করা যায়। এক্ষেত্রে রক্তের সেরোটনিন নামক কেমিক্যাল বাড়ায় এমন সব খাদ্য খাবারের মেনুতে রাখা ভালো। মনে রাখতে হবে এই সেরোটনিনই মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সামান্য গরম ওয়াটমিল বেশ উপকারী এবং এ ধরনের খাবার সেরোটনিন বাড়ায়। ফলে মানসিক অবসাদ ও চাপ কমে। এছাড়া কমলা, বাঁধাকপি, কিছু কিছু মাছ রক্তের কর্টিসোল ও এডরিনালিন হরমোন কমাতে সাহায্য করে। এই হরমোনকে মানসিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দায়ী করা হয়। সর্বোপরি যে কোন পুষ্টিগুণ সপন্ন সুষম খাদ্য, তাজা শাক-সবজি, গাজর জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, এক গ্লাস গরম দুধ পান করলেও খানিকটা মানসিক চাপ কমে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন দুধের বাড়তি ক্যালসিয়াম পেশীর সঙ্কোচন কমায় এবং টেনশন হ্রাসে সহায়ক। তাই গরম দুধ মানসিক চাপ কমাতে বেশ কার্যকর। এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত হেলথ ম্যাগাজিন মোজাইক-এ।
অবসাদে আমরা সবাই এক-আধ সময়ে ভুগি। জীবনযুদ্ধে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে কখনও অবসাদগ্রস্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে যখন এই অবসাদপূর্ণ ভাবটা এত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হয় না, তখন এটাকে ডিপ্রেশন আখ্যা দেয়া হয়। ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ। এর ঠিকমত চিকিত্সা না হলে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত লোক অনেক সময়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। সাধারণভাবে ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো হলো :
—বিমর্ষতা, উদ্যমহীনতা, সব সময়ে একটা আশাহীন ভাব।
—যেগুলো একসময় ভালো লাগত, সেগুলো আর ভালো না লাগা।
—কোনো কিছুতে মনঃসংযোগ না করতে পারা বা কোনো কিছুতে মনস্থির করতে না পারা।
—অল্প কারণেই কাঁদা ও কান্না দমন করতে না পারা।
—খিটমিটে আচরণ করা।
—নিদ্রাহীনতায় ভোগা, অথবা বেঘোরে ঘুমানো।
—পেট ব্যথা, পেট খারাপ, গায়ে ব্যথা, মাথা ধরা ইত্যাদিতে ভোগা।
—যৌনজীবনে সমস্যা।
—হঠাত্ খিদের পরিবর্তন হওয়া।
—আত্মহত্যার কথা ভাবা।
বিষাদগ্রস্ত হয়ে যাতে কেউ আত্মহত্যার পথ না বেছে নেন, সে ব্যাপারে সবার সতর্ক হতে হবে। যারা আত্মহত্যার কথা ভাবছেন, তারা অনেক সময়েই নিজের মৃত্যুর কথা বলেন; হঠাত্ অবসাদমুক্ত হয়ে চুপচাপ হয়ে যান বা খুশিখুশি ভাব দেখান। যাদের ভালোবাসেন তাদের সঙ্গে হঠাত্ গিয়ে দেখা করে আসেন। উইল প্রস্তুত করেন, দেনা-পাওনা চুকিয়ে দেন। এইসব লক্ষণ দেখলে এদের যথাসম্ভব শিগগিরই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
সাধারণ ডিপ্রেশন ছাড়াও আরও কয়েকটি ডিপ্রেশনজনিত অসুখ আছে :
সাইকোটিক ডিপ্রেশন
সাইকোটিক ডিপ্রেশনে সাধারণ ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলোর সঙ্গে যোগ হয় অহেতুক দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা, চলত্শক্তিহীনতা ইত্যাদি। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের হ্যালুসিনেট (যা প্রকৃতপক্ষে নেই, তা দেখা বা শোনা) করতে বা ডিল্যুশনে (অযৌক্তিক ভয়ে বা চিন্তায় জর্জরিত হওয়া) ভুগতে দেখা যায়। কিন্তু রোগীদের বাস্তববোধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অক্ষুণ্ন থাকে, যা অন্য অনেক মানসিক রোগের ক্ষেত্রে থাকে না।
ডিসথিমিয়া
ডিসথিমিয়া বা ক্রনিক ডিপ্রেশনে অবসাদের মাত্রা সাধারণ ডিপ্রেশনের থেকে কম হয়। কিন্তু এটা চলে বহুদিন পর্যন্ত। ফলে এই রোগীদের সব সময়ই অসুখী বলে মনে হয়।
সিজন্যাল এফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (স্যাড)
স্যাড একটা বিশেষ সময়ে হয়। শীতের দেশের লোকদের শীতকালে এই ডিপ্রেশনে ভুগতে দেখা যায়। এটাকে ক্যাবিন ফিভারও অনেক সময় বলা হয়।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার
বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ম্যানিক ডিপ্রেসিভ ডিজিজ হলো এক ধরনের মানসিক অসুখ, যাতে রোগীর মেজাজ একেবারে নাগরদোলায় ওঠানামা করে। একসময় এরা আনন্দের তুঙ্গে থাকেন। তখন বাড়াবাড়ি রকমের আত্মবিশ্বাস দেখানো, উত্তেজিত অবস্থায় থাকা, তাড়াতাড়ি কথা বলা, অত্যুত্সাহে ছটফট করা, আকাশছোঁয়া পরিকল্পনা ইত্যাদি করতে দেখা যায়। এই অবস্থায় অনেক সময় তাদের বাস্তববোধ (বিশেষ করে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে) লুপ্ত হয়। অন্য সময়ে এরাই আবার অকারণেই বিষাদে নিমগ্ন হয়ে যান। তখন ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলো প্রকট হয়ে ওঠে।
সাধারণ ডিপ্রেশন নানা কারণে হতে পারে। বংশানুক্রমে ডিপ্রেশন সংক্রমিত হয় বলে অনেকের বিশ্বাস। প্রিয়জনের মৃত্যুতে, পারিবারিক নির্যাতনের ফলে, জীবনের কোনো বিশেষ ঘটনায় (ডিভোর্স, চাকরি যাওয়া, বেকারত্ব, দুরারোগ্য কোনো ব্যাধি, চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ ইত্যাদি) এবং বিশেষ কোনো ওষুধ খেলেও এই ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে।
ডিপ্রেশনে কেউ ভুগছেন মনে করলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। ডাক্তার রোগীর সঙ্গে কথা বলে ও পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন, ডিপ্রেশন কোন বাহ্যিক কারণে (ওষুধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ইত্যাদি) হয়েছে। তা না হলে ডাক্তার রোগীকে হয় সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা সাইকোলজিস্টের কাছে পাঠাবেন। চিকিত্সা নানা ধরনের হয়। অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট ওষুধ দেয়া বা সাইকোথেরাপি (কথাবার্তার সাহায্যে মনোবিদরা এই চিকিত্সা করেন) অথবা দুই-ই। ক্ষেত্রবিশেষে ইলেক্টরোকনভালসিভ থেরাপিও (খুব অল্প সময়ের জন্য ইলেকট্রিক শক দিয়ে শরীরকে কব্জা করা) করতে হতে পারে। সাইকোটিক ডিপ্রেশন সারাতে বেশ কিছুদিনের জন্য হাসপাতালে গিয়ে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর চিকিত্সা সময়সাপেক্ষ। সাধারণত অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট ও অ্যান্টিসাইকোটিভ ওষুধ ব্যবহার করে ডাক্তাররা এই চিকিত্সা করেন। ডিসমিথিয়া সাধারণত সাইকোথেরাপিতেই সারে।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার যাদের ঘন ঘন হয়, তাদের চিকিত্সা খুবই কঠিন। সাধারণভাবে এর চিকিত্সা জীবনব্যাপীই করা দরকার। ওষুধই এর একমাত্র চিকিত্সা। তবে সাইকোথেরাপিও অনেক সময় করা হয়। লিথিয়ামযুক্ত ওষুধ মেজাজ বা মুডকে সংযত রাখতে সাহায্য করে। তাই লিথিয়ামযুক্ত ওষুধ এই অসুখে ডাক্তাররা দেন। একইসঙ্গে অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট। এছাড়া নতুন ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ শরীরের জন্য মোটেও হিতকর নয়। প্রবল মানসিক চাপ থেকে সাধারণ ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো জটিল সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। আর এই মানসিক চাপ, অবসাদ কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে নানা উপায় রয়েছে। তন্মধ্যে যথাযথ ডায়েট নির্বাচন করেও সমস্যা লাঘব করা যায়। এক্ষেত্রে রক্তের সেরোটনিন নামক কেমিক্যাল বাড়ায় এমন সব খাদ্য খাবারের মেনুতে রাখা ভালো। মনে রাখতে হবে এই সেরোটনিনই মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সামান্য গরম ওয়াটমিল বেশ উপকারী এবং এ ধরনের খাবার সেরোটনিন বাড়ায়। ফলে মানসিক অবসাদ ও চাপ কমে। এছাড়া কমলা, বাঁধাকপি, কিছু কিছু মাছ রক্তের কর্টিসোল ও এডরিনালিন হরমোন কমাতে সাহায্য করে। এই হরমোনকে মানসিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দায়ী করা হয়। সর্বোপরি যে কোন পুষ্টিগুণ সপন্ন সুষম খাদ্য, তাজা শাক-সবজি, গাজর জাতীয় খাবার মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, এক গ্লাস গরম দুধ পান করলেও খানিকটা মানসিক চাপ কমে। গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন দুধের বাড়তি ক্যালসিয়াম পেশীর সঙ্কোচন কমায় এবং টেনশন হ্রাসে সহায়ক। তাই গরম দুধ মানসিক চাপ কমাতে বেশ কার্যকর। এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত হেলথ ম্যাগাজিন মোজাইক-এ।
অবসাদে আমরা সবাই এক-আধ সময়ে ভুগি। জীবনযুদ্ধে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে কখনও অবসাদগ্রস্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে যখন এই অবসাদপূর্ণ ভাবটা এত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হয় না, তখন এটাকে ডিপ্রেশন আখ্যা দেয়া হয়। ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ। এর ঠিকমত চিকিত্সা না হলে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত লোক অনেক সময়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। সাধারণভাবে ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো হলো :
—বিমর্ষতা, উদ্যমহীনতা, সব সময়ে একটা আশাহীন ভাব।
—যেগুলো একসময় ভালো লাগত, সেগুলো আর ভালো না লাগা।
—কোনো কিছুতে মনঃসংযোগ না করতে পারা বা কোনো কিছুতে মনস্থির করতে না পারা।
—অল্প কারণেই কাঁদা ও কান্না দমন করতে না পারা।
—খিটমিটে আচরণ করা।
—নিদ্রাহীনতায় ভোগা, অথবা বেঘোরে ঘুমানো।
—পেট ব্যথা, পেট খারাপ, গায়ে ব্যথা, মাথা ধরা ইত্যাদিতে ভোগা।
—যৌনজীবনে সমস্যা।
—হঠাত্ খিদের পরিবর্তন হওয়া।
—আত্মহত্যার কথা ভাবা।
বিষাদগ্রস্ত হয়ে যাতে কেউ আত্মহত্যার পথ না বেছে নেন, সে ব্যাপারে সবার সতর্ক হতে হবে। যারা আত্মহত্যার কথা ভাবছেন, তারা অনেক সময়েই নিজের মৃত্যুর কথা বলেন; হঠাত্ অবসাদমুক্ত হয়ে চুপচাপ হয়ে যান বা খুশিখুশি ভাব দেখান। যাদের ভালোবাসেন তাদের সঙ্গে হঠাত্ গিয়ে দেখা করে আসেন। উইল প্রস্তুত করেন, দেনা-পাওনা চুকিয়ে দেন। এইসব লক্ষণ দেখলে এদের যথাসম্ভব শিগগিরই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।
সাধারণ ডিপ্রেশন ছাড়াও আরও কয়েকটি ডিপ্রেশনজনিত অসুখ আছে :
সাইকোটিক ডিপ্রেশন
সাইকোটিক ডিপ্রেশনে সাধারণ ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলোর সঙ্গে যোগ হয় অহেতুক দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা, চলত্শক্তিহীনতা ইত্যাদি। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের হ্যালুসিনেট (যা প্রকৃতপক্ষে নেই, তা দেখা বা শোনা) করতে বা ডিল্যুশনে (অযৌক্তিক ভয়ে বা চিন্তায় জর্জরিত হওয়া) ভুগতে দেখা যায়। কিন্তু রোগীদের বাস্তববোধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অক্ষুণ্ন থাকে, যা অন্য অনেক মানসিক রোগের ক্ষেত্রে থাকে না।
ডিসথিমিয়া
ডিসথিমিয়া বা ক্রনিক ডিপ্রেশনে অবসাদের মাত্রা সাধারণ ডিপ্রেশনের থেকে কম হয়। কিন্তু এটা চলে বহুদিন পর্যন্ত। ফলে এই রোগীদের সব সময়ই অসুখী বলে মনে হয়।
সিজন্যাল এফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (স্যাড)
স্যাড একটা বিশেষ সময়ে হয়। শীতের দেশের লোকদের শীতকালে এই ডিপ্রেশনে ভুগতে দেখা যায়। এটাকে ক্যাবিন ফিভারও অনেক সময় বলা হয়।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার
বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ম্যানিক ডিপ্রেসিভ ডিজিজ হলো এক ধরনের মানসিক অসুখ, যাতে রোগীর মেজাজ একেবারে নাগরদোলায় ওঠানামা করে। একসময় এরা আনন্দের তুঙ্গে থাকেন। তখন বাড়াবাড়ি রকমের আত্মবিশ্বাস দেখানো, উত্তেজিত অবস্থায় থাকা, তাড়াতাড়ি কথা বলা, অত্যুত্সাহে ছটফট করা, আকাশছোঁয়া পরিকল্পনা ইত্যাদি করতে দেখা যায়। এই অবস্থায় অনেক সময় তাদের বাস্তববোধ (বিশেষ করে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে) লুপ্ত হয়। অন্য সময়ে এরাই আবার অকারণেই বিষাদে নিমগ্ন হয়ে যান। তখন ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলো প্রকট হয়ে ওঠে।
সাধারণ ডিপ্রেশন নানা কারণে হতে পারে। বংশানুক্রমে ডিপ্রেশন সংক্রমিত হয় বলে অনেকের বিশ্বাস। প্রিয়জনের মৃত্যুতে, পারিবারিক নির্যাতনের ফলে, জীবনের কোনো বিশেষ ঘটনায় (ডিভোর্স, চাকরি যাওয়া, বেকারত্ব, দুরারোগ্য কোনো ব্যাধি, চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ ইত্যাদি) এবং বিশেষ কোনো ওষুধ খেলেও এই ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে।
ডিপ্রেশনে কেউ ভুগছেন মনে করলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। ডাক্তার রোগীর সঙ্গে কথা বলে ও পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন, ডিপ্রেশন কোন বাহ্যিক কারণে (ওষুধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ইত্যাদি) হয়েছে। তা না হলে ডাক্তার রোগীকে হয় সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা সাইকোলজিস্টের কাছে পাঠাবেন। চিকিত্সা নানা ধরনের হয়। অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট ওষুধ দেয়া বা সাইকোথেরাপি (কথাবার্তার সাহায্যে মনোবিদরা এই চিকিত্সা করেন) অথবা দুই-ই। ক্ষেত্রবিশেষে ইলেক্টরোকনভালসিভ থেরাপিও (খুব অল্প সময়ের জন্য ইলেকট্রিক শক দিয়ে শরীরকে কব্জা করা) করতে হতে পারে। সাইকোটিক ডিপ্রেশন সারাতে বেশ কিছুদিনের জন্য হাসপাতালে গিয়ে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর চিকিত্সা সময়সাপেক্ষ। সাধারণত অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট ও অ্যান্টিসাইকোটিভ ওষুধ ব্যবহার করে ডাক্তাররা এই চিকিত্সা করেন। ডিসমিথিয়া সাধারণত সাইকোথেরাপিতেই সারে।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার যাদের ঘন ঘন হয়, তাদের চিকিত্সা খুবই কঠিন। সাধারণভাবে এর চিকিত্সা জীবনব্যাপীই করা দরকার। ওষুধই এর একমাত্র চিকিত্সা। তবে সাইকোথেরাপিও অনেক সময় করা হয়। লিথিয়ামযুক্ত ওষুধ মেজাজ বা মুডকে সংযত রাখতে সাহায্য করে। তাই লিথিয়ামযুক্ত ওষুধ এই অসুখে ডাক্তাররা দেন। একইসঙ্গে অ্যান্টিডিপ্রেশ্যান্ট। এছাড়া নতুন ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment