Saturday, March 9, 2013

কান,চোখ,ঘাড় প্রাথমিক চিকিৎসা

কান
আহত ব্যক্তিকে    দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন তার আঘাত কতটুকু। দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেওয়া প্রয়োজন কি না
জালাল আহমেদ

কানে তালা
যা করবেন
ঠাণ্ডা লেগে, কানে পানি ঢুকে বা প্রচণ্ড শব্দ এবং বিমানে ওঠানামা করলে কানে তালা ধরতে পারে। এর প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। প্রথমে কানে তুলা গুঁজে রাখুন। শব্দ থেকে দূরে থাকুন। নাক-মুখ বন্ধ করে বারবার ঢোক গিলুন।
চিকিৎসা
শর্ষের তেলে রসুন ও আদার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে সামান্য গরম করে ঠাণ্ডা হলে দিনে ২ বার ১ ফোঁটা করে কানে দেবেন। শর্ষের তেলের সঙ্গে ১ চিমটি কর্পূর ও ধুতরাপাতার রস ১ চা চামচ মিশিয়ে ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার লাগতে পারেন। তারপিন তেল ও শর্ষের তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে সামান্য গরম করে দিনে ২ বার ১ ফোঁটা করে দিন। আধা গ্রাম সমুদ্র ফেন চূর্ণ তারপিন তেলে মিশিয়ে গরম করে ২ বার ১ ফোঁটা করে দিলে উপকার হয়।
কানে পানি ঢোকা
যা করবেন
একটু ধৈর্য ধরলে পানি বাষ্প হয়ে এমনিতে বার হয়ে যায়। ধৈর্য ধরতে না পারলে কানের ভেতরে ১ ফোঁটা পানি দিয়ে মাথা ঝাঁকালে উপকার পাবেন, যদি কান খোলা থাকে। এ ছাড়া হাতের কাছে রেকটিফায়েড স্পিরিট, ওডিকোলন বা আফটার শেভ লোশন থাকলে তার কয়েক ফোঁটা কানে দিন। এগুলো কানের পানি শুষে নেবে।
চিকিৎসা
দেবদারু ও আদার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে ১ চিমটি কর্পূরসহ সামান্য গরম করে কানে ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার দিন। এক কোয়া রসুন থেঁতো করে তার রস শর্ষে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গরম করে ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার দিলে উপকার পাবেন। এ ছাড়া তুলসীপাতার রস ১ ফোঁটা করে দিনে ২ বার দিলেও ভালো হয়।
লেখক : আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক                                                                                                                                                       






  চোখে আঘাত
যা করবেন
প্রথমে এক টুকরো বরফ নরম সুতি কাপড়ে পেঁচিয়ে আঘাতের জায়গায় লাগাবেন। কিংবা ঠাণ্ডা পানি দেবেন। রোদচশমা ব্যবহার করবেন। চোখ লাল হয়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখাবেন।
চিকিৎসা
* চা বানানোর পর যে পাতা থাকবে তা গরম অবস্থাতেই কাপড়ে পেঁচিয়ে ব্যথার জায়গায় লাগাবেন। ব্যথা ও ফুলে যাওয়া দ্রুত কমবে।
* কনকধুতরো ২টা বেটে সামান্য গরম করে লাগালে উপকার পাবেন।
চোখ ওঠা
যা করবেন
চোখ রগড়াবেন না। পরিষ্কার গরম পানিতে তুলা বা গজ ভিজিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন। হালকা গরম সেক দিন। রোদচশমা ব্যবহার করুন। চোখকে বিশ্রাম দিন।
চিকিৎসা
* গোলাপজলের সঙ্গে হরিদ্রা চূর্ণ শিশিয়ে ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে দিনে ২ ফোঁটা করে চোখে লাগালে উপকার পাবেন।
* গোলাপজলের সঙ্গে লোধছাল ও সমুদ্রফেন সমপরিমাণে মিশিয়ে ২ ফোঁটা করে দিনে ২ থেকে ৩ বার লাগালে ব্যথা ও ফোলা ভাব কমবে।
অঞ্জনি
যা করবেন
চোখে গরম পানির সেক দিন। চোখকে বিশ্রাম দিন। রোদচশমা ব্যবহার করুন। হাত দিয়ে টিপাটিপি করবেন না।
চিকিৎসা
* একটা এরন্ডপাতা বেটে নিয়ে সামান্য গরম করে লাগান।
* থানকুনি পাতা বেটে গরম করে লাগালেও উপকার পাবেন।                                                                                                                 





 কু ই ক হেলথ টিপস : মাথাব্যথা দূর করবে পানি
মাথাব্যথার অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো পানিশূন্যতা। এক্ষেত্রে দুই গ্লাস পানি খেয়ে বিশ মিনিট বিশ্রাম নিন, দেখবেন মাথাব্যথা কমে গেছে।   




পানিতে ডোবা

পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে যথাসম্ভব দ্রুত পাড়ে নিয়ে আসুন। তারপর পর্যায়ক্রমে নিচের চিকিৎসা অনুসরণ করুন :
* পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির মুখ ও নাক পরিষ্কার করুন।
* পেট থেকে পানি বের করার জন্য উপুড় করে শোয়ান।
* শোয়ানোর জায়গাটা অবশ্যই সমতল হতে হবে। পাড়ে এনে সবুজ ঘাস আছে এমন শক্ত জায়গায় কাপড় বিছিয়ে শোয়ান।
* ডুবে যাওয়া ব্যক্তির হাত দুটি তাঁর কপালের নিচে রাখুন।
* একটি বালিশ বা কিছু কাপড় তাঁর পেটের নিচে রাখুন।
* পিঠে মৃদু চাপ দিতে থাকুন, যাতে পেটে পানি থাকলে বের হতে থাকে।



পায়ের চামড়া ওঠা বা ফোসকা পড়া
জুতার ভেতরের ঠিক যে অংশের সঙ্গে পায়ে ঘষা লাগছে, সেই অংশে নারকেল তেল দিয়ে কিছুক্ষণ পর জুতা পরুন। পায়ের ফোসকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। এরপর ব্যান্ডেজলাগিয়ে জুতা পরুন। বাড়ি ফিরে জুতা খোলার পর জায়গাটায় আবার পরিষ্কার করে অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগান।

চিকিৎসা
*নারকেল তেল তুলার প্যাডে ভিজিয়ে জুতা পরার ৫-১০ মিনিট আগে চামড়া ওঠা জায়গায় তিন-চার দিন লাগান।
*নারকেল তেল এক চিমটি কর্পূরের সঙ্গে মিশিয়ে ফোসকার জায়গায় লাগান।
*রসুন থেঁতো করে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে উপকার পাবেন।

নখ ওঠা
ক্ষত জায়গা পরিষ্কার করে অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগিয়ে বেঁধে রাখুন। লাগাতে পারেন ব্যান্ড এইড। প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খাবেন। নখ খুঁটবেন না। পায়ের নখের বেলায় চাপা জুতা পরবেন না।

চিকিৎসা
*পানের খয়েরের পেস্ট ক্ষত জায়গায় দিনে তিনবার লাগান।
*শ্বেতকরবী মূল বেটে গরম করে লাগালে উপকার পাবেন।
*নিমপাতা বাটা মেটে সিঁদুর ও সাদা ধুনো একসঙ্গে মিশিয়ে লাগান, ব্যথা থাকবে না।





ঘাড় ব্যথার আধুনিক চিকিত্সা
ডা. মো. শাহাদত্ হোসেন

প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড কনসালট্যান্ট
ফিজিওথেরাপি ফাউন্ডেশন

রাতে সুস্থ মানুষ শুয়ে আছেন, সকাল বেলায় আর ডান-বাম ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। এর কারণ কি জানেন? হয়তো ঘুমের ঘোরে আপনার ঘাড়ের অবস্থান ঠিক ছিল না অথবা রোগের বহি:প্রকাশ। ঘাড় ব্যথা বিভিন্ন রোগের বহি:প্রকাশে হতে পারে। যেমন—স্পনডাইলোসিস, আথ্রাইটিস বা বাত জনিত সমস্যা, ফাইব্রোমায়েলজিয়া ডিক্স প্রলাস্প অথবা যখন ব্যথা হাতে চলে যায় নিউরাইটিস এবং নিডর্যালজিয়া।

কোথায় ব্যথা অনুভব হলে বলা
যাবে রোগীর ঘাড়ে সমস্যা?
ঘাড়ব্যথা একেকজনের একেক রকম হতে পারে। ব্যথা প্রথমত শুরু হয় ঘাড়ের নিচের অংশের যে কোনো একদিকে। হয় ডান দিকে অথবা বাম দিকে। অনেক সময় ব্যথা শুরু হয় মাঝখান থেকে। কিছুদিনের মধ্যে ব্যথা ছড়িয়ে যায় কাঁধের চারপাশে। তারপর কনুইয়ের উপরের অংশে অথবা ছড়িয়ে যেতে পারে হাতের কব্জি ও আঙুল পর্যন্ত। হাতে আঙুল ঝিনঝিন ও নাম্বনেস অনেকের হাতের বোধশক্তি কমে যায়। অনেক রোগী মনে করেন তার হাতের ওপর আরও একটি স্তর আছে। কারও কারও হাত দুর্বল হয়ে যায়। এতে ঘাড়ে ব্যথা না হয়ে কিছু ব্যথা অনুভব হতে পারে বাহু থেকে। ঘাড় ব্যথার সঙ্গে মাথার ব্যথারও সম্পর্ক আছে। এ ব্যথা মাথার একপাশে, মাথার পেছনে, কারও কারও মাথার দু’পাশে অনুভব করে। এ ব্যথাকে বলে সারভাইকো জোনিক মাথাব্যথা। ব্যথার শুরুটা রহস্যজনকভাবে কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে। আবার কমে যাওয়াটাই রহস্যজনকভাবে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর ব্যথা তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
ঘাড় ব্যথার কারণ
সারাদিনে যেসব কাজ আমরা করে থাকি তার বেশিরভাগ কাজ করা হয় সামনে ঝুঁকে বা রিলাক্সভাবে বসা অবস্থায় তখন মাথা ও ঘাড় প্রোটুটেড বা সামনে আগানো থাকে।। যদি এই অবস্থান দিনের পর দিন চলতে থাকে তাহলে ঘাড়ের অবস্থানগত পরিবর্তন হয়। এতে লিগামেন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ফলে দীর্ঘদিন বারবার মাংসপেশী যখন অতিরিক্ত চাপে থাকে তখন এদের মধ্যে একধরনের ইনজুরি ও ড্যামেজ শুরু হয়। ফলে ঘাড় ব্যথা শুরু হয়। আর এসব ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে রোগীর দৈনন্দিন কাজের মধ্যে অবস্থানগত ত্রুটির জন্য।
রোগের কারণে স্পনডাইলোসিস, আথ্রাইটিস বা বাত জনিত সমস্যা, সারভাইক্যাল রিবস, ফাইব্রোমায়েলজিয়া ডিক্স প্রলাস্প, নিউরাইটিস নিডর্যালজিয়া।

কাঠামোগত কারণ
—ভুলভাবে দীর্ঘসময় বসা অবস্থায় থাকার কারণে বিশ্রাম ও বিছানায় শোয়ার কারণে।
—সঠিক বিছানা সঠিক বালিশ না ব্যবহার করার জন্য কঠিন বা পরিশ্রমের কাজ করার পরে হঠাত্ রিলাক্সে যাওয়ার কারণে বিসদৃশভাবে কাজ করলে।
—চেয়ার টেবিল বা কম্পিউটার উচ্চতা সঠিক না হলে
বসার ভঙ্গিমা ঠিকমত না হলে এবং ডেস্কে কাজ করার অবস্থাগত পদ্ধতি ভুল হলে কোমর, ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা সৃষ্টি হয়।
ঘাড় ব্যথায় ম্যানুয়াল থেরাপি
ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা : গবেষণা করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘাড় ব্যথা রোগী ফিজিওথেরাপি নিয়ে ভালো আছে। তবে বুঝতে হবে কি ধরনের ফিজিওথেরাপি দরকার। ঘাড় ব্যথার সঠিক চিকিত্সা হচ্ছে ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশ থেরাপি। ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশ থেরাপি দ্বারা রোগী তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

যেভাবে থেরাপি কাজ করে
ম্যানুয়াল থেরাপি : প্রথমেই দরকার অবস্থানগত পরিবর্তন বা সঠিকীকরণ যে অবস্থানে রোগীর ব্যথা কম থাকে বা হাতের ব্যথা কমে ঘাড়ে আসে। একেই বলে সেন্ট্রালাইজেশন বা ব্যথা কেন্দ্রীভূতকরণ। আর রোগীকে অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে শুরুমাত্র একটি মুভমেন্ট নির্বাচন করতে হবে, যে মুভমেন্টটি রোগীর সমস্যাটিকে অর্থাত্ ঘাড়ের অবস্থানটাকে সঠিক করে ফলে ব্যথা কমে যায়। এভাবেই যদি রোগী ১০-১৫ দিন প্রতিদিন ৪-৫ বার করে তাহলে ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে এবং রোগী সাধারণ কাজে ফিরে যেতে পারবে। তবে রোগীকে ব্যয়ামটি দিনে ২-৩ বার বেশ কিছুদিন করতে হবে। এ পদ্ধতির এ নাম ম্যাকেঞ্জি যা বিশ্বে বিশেষভাবে সমাদৃত।
ম্যানুপুলেশন : এই প্রক্রিয়াটিও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ প্রক্রিয়ায় রোগীকে প্রথমে ব্যথামুক্ত পাশকে রোটেশন করে শোয়াতে হবে এবং এ অবস্থায় থ্রাস্ট বা জোড়ে চাপ দিতে হবে, যাতে ঘাড়ের অবস্থান সঠিক জায়গায় এসে পড়ে। ফলে ব্যথা সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়।








No comments:

Post a Comment