Monday, March 11, 2013

ফলের ঔষধি গুণ

ফলের ঔষধি গুণ 

কাঁচা মরিচ


আমাদের প্রতিদিনের খাবার তৈরিতে একটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে মরিচ। ঝাঁঝ আর ঝালের কারণে খাবারের স্বাদ বাড়াতে আমরা মরিচের ব্যবহার করি। ছোট সবুজ এই কাঁচা মরিচ ভিটামিন সি’র বড় উৎস ।
কাঁচা মরিচ একটি কার্যকর এন্টি-অক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনে অত্যন্ত জরুরি
ক্যান্সার নিরাময় ও মানসিক অবসাদ কমাতেও মরিচের ভূমিকা রয়েছে
ত্বকের ক্ষত সারানো, রক্তনালী ও তরুণাস্থি গঠনে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কাঁচা মরিচ প্রয়োজনীয়
এছাড়াও বর্তমানে আমরা বাড়তি মেদ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত এবং সচেতন। জানেন কি মরিচে চর্বির পরিমাণ থাকে শূন্য শতাংশ? জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম না করেও শুধুমাত্র কাঁচা মরিচ খেয়ে আমরা শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কামাতে পারি। কাঁচা মরিচ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায়না এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। খাওয়ার সময় মরিচের ঝাল স্বাদের কারণে আমদের প্রচুর ঘাম হয়, আর এটি আমাদের জমানো ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে।
ঝালের কারণে একে দূরে সরিয়ে রাখবেন না।প্রতিদিন আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্তত ১টি কাঁচা মরিচ সঙ্গী হতেই পারে।



খেজুর


রমজানে ইফতার করা, মুমিন মুসলিমদের জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করি। খেজুর খেয়ে ইফতার করা সুন্নত। তাই রমজানে খেজুরের কদর বেড়ে যায়। খেজুর না থাকলে আমাদের ইফতার যেন পরিপূর্ণ হয়না। কিন্তু কী আছে এই খেজুরে, আমরা কেন এতো গুরুত্বের সঙ্গে খেজুর খাই?
আমরা হয়তো অনেকেই জানি মিষ্টি মধুর ছোট এই ফলটির গুণের কথা। আর যারা না জেনেই খেজুর খাই আজ জেনে নেই।
বলা হয়ে থাকে বছরে যতোগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুন রয়েছে। খেজুর যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর ফল।
এমিনো এসিড, প্রচুর শক্তি, শর্করা ভিটামিন, মিনারেল সমৃদ্ধ খেজুর খেলে:
  • খাদ্যশক্তি থাকায় দুর্বলতা দূর হয়
  • খেজুর স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে
  • রোজায় অনেকক্ষন খালি পেটে থাকা হয় বলে দেহের প্রচুর গ্লুকোজের দরকার হয়
  • খেজুরে অনেক গ্লুকোজ থাকায় এ ঘাটতি পূরণ হয়
  • হৃদরোগীদের জন্যও খেজুর বেশ উপকারী
  • খেজুরের প্রচুর খাদ্য উপাদান রয়েছে
  • খেজুর রক্ত উৎপাদনকারী
  • হজমশক্তি বর্ধক, যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক
  • রুচি বাড়ায়
  • ত্বক ভালো রাখে
  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • খেজুরের আঁশ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
  • পক্ষঘাত এবং সব ধরনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য উপকারী
  • ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে
  • অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মের সময় খেজুর খেলে জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে, প্রসব হতে সাহায্য করে
  • এছাড়াও এ ফল প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
যে কোনো ফলের চেয়ে খেজুরের পুষ্টিগুণ বেশি। শুধু রমজান মাসের জন্য নয় সারা বছর পরিবারের সবার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমরা এই ফলটিকে রাখতে পারি।


পেয়ারা
* পেয়ারা পাতা ও অপরিপক্ব পেয়ারা কলেরা, আমাশয় নিরাময়ে ভালো কাজ করে।
* ত্বকের ক্ষত বা ঘায়ে পেয়ারা পাতা থেঁতো করে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।
* কচি পেয়ারা পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা কমে।
* মাড়ি ফোলা বা দাঁতের ব্যথায় প্রতিদিন সকালে পেয়ারার ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি ফোলা কমবে, ব্যথাও থাকবে না।

বরই
* বরই পাতা পিষে খেলে বাতের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
* বরই রক্ত পরিষ্কার এবং হজমে সহায়তা করে।
* শুকনো বরই গুঁড়া ও আখের গুড় মিশিয়ে খেলে ইউরিন ইনফেকশন থাকবে না।

কলা
* পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
* কলার থোড় বা মোচা রান্না করে খেলে ডায়াবেটিস, আমাশয় ও আলসার নিরাময় হয়।
* পাকা বিচিকলার বীজ কৃমিনাশক।

আনারস
* পাকা আনারসের জুস নিয়মিত খেলে জন্ডিস ভালো হয়।
* কচি আনারসের শ্বাস ও পাতার রস মধু মিশিয়ে খেলে কৃমি মরে যায়।

কামরাঙ্গা
* পাকা কামরাঙ্গা রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
* কাঁচা ফল ও পাতা সিদ্ধ করে পানি পান করলে বমি বন্ধ হয়।
* কামরাঙ্গা গাছের ডগা ও পাতার গুঁড়া খালি পেটে খেলে জলবসন্ত ও কৃমি নিরাময় হয়।
* কাশি ও অ্যাজমা নিরাময়ে পোড়া কামরাঙ্গা উপকারী।

লেবু
* লেবুর রস, আদা ও লবণ মিশিয়ে খেলে ঠাণ্ডা ও সর্দি-কাশি উপশম হয়।
* লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে যেকোনো ক্ষত শুকায়।
* লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে রোদে পোড়া কালো দাগ থাকবে না।

চালতা
* কচি চালতার রস পেটের গ্যাস দূর করে। বাতের ব্যথায়ও উপকারী।
* কাঁচা চালতার রস ও আখের গুড় মিশিয়ে খেলে কফ দূর হয়, শ্বাসকষ্ট কমে যায়।
* পাকা চালতার রস চিনিসহ পান করলে সর্দিজ্বর উপশম হয়।

করমচা
* পাতা সিদ্ধ করে পান করলে কালাজ্বর ভালো হয়।
হশিকড়ের রস লাগালে ত্বকের চুলকানি সেরে যায়।

বেল
* পাকা বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়।
* আমাশয় নিরাময়ে আধা পাকা বেল সিদ্ধ করে খেলে বেশ উপকার হয়।
* বেল পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে চোখের ছানি কেটে যায়। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

আমলকী
* আমলকী নিয়মিত খেলে হাঁপানি, কাঁশি ও জ্বর নিরাময় হয়।
* আমলকী রসের শরবত জন্ডিস, বদহজম দূর করে।
* আমলকীর বীজ চূর্ণ যকৃৎ, অজীর্ণ ও ডায়াবেটিস রোগের প্রকোপ কমায়।

খেজুর
* সকালে খালিপেটে আধাপাকা খেজুরের রস খেলে কৃমি চলে যায়।
* পাকা খেজুর শারীরিক দুর্বলতা কমায়, স্নায়বিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
* খেজুরের বিচি চূর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁতের যেকোনো দাগ চলে যায়।
* শুষ্ক কাশি এবং অ্যাজমায় খেজুর বীজ চূর্ণ বেশ উপকারী।
* খেজুর গাছের কাণ্ড থেকে নির্গত আঠা ডায়রিয়া ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমায়।

কতবেল
* পাকা কতবেল যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে।
* বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ালে ক্ষতস্থানে বেলের শাঁস প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।
* কচি কতবেল পাতার রস দুধ ও মিছরির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শিশুদের পিত্তরোগ ও পেটের অসুখ ভালো হয়।

পানিফল
* কাঁচা পানিফল তলপেটের ব্যথা কমায়।
* পানিফলের শুকনো শাঁস রুটি করে খেলে অ্যালার্জি ও হাত-পা ফোলা কমে যায়।
* বিছা কামড়ালে থেঁতলানো পানিফলের শাঁস প্রলেপ দিলে উপকার হয়।

No comments:

Post a Comment