Saturday, March 9, 2013

দাঁত

আপনার মুখে দুর্গন্ধ !

যদি আপনার মুখে দুর্গন্ধ থাকে তাহলে জানবেন শুধু আপনি একা নন, আপনার আশপাশের অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। আমাদের দেশের ৮৫ ভাগ লোক কোনো না কোনোভাবে এই সমস্যার শিকার। দন্ত চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার এই সমস্যাকে হ্যালিটোসিস বলে।

যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে
* মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হলো সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও সঠিক পেস্ট ব্যবহার না করা।
* তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার, যেমন—পেঁয়াজ, রসুনযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড খাওয়া।
* মাড়ির সমস্যা, উঁচুনিচু বা ফাঁকা দাঁত, যেখানে খাবার জমে-পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
* দাঁতে ক্যারিজ হলে।
* ড্রাই মাউথ সিনড্রোম।
* মুখ দীর্ঘ সময় ধরে শুকনো থাকলে।
* তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি বা জর্দা-চুনসহ পান খেলে।
* মুখের ক্যান্সারে।
* জিহ্বায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
* এ ছাড়া যদি আপনার ডায়াবেটিস, ক্রনিক সাইনুসাইটিস, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ক্রনিক কফ, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাহলে আপনার মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

মুখে দুর্গন্ধের কারণে দাঁতের রোগ
দীর্ঘদিন যদি আপনার মুখে দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস রোগ থাকে, তবে সেখান থেকে প্ল্যাক বা ক্যালকুলাস জমে দন্তক্ষয় হতে পারে। এছাড়া মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ হলো হ্যালিটোসিস রোগ।

প্রতিরোধের কিছু উপায়
অনেকেই হয়তো মনে করেন, বাজারে অনেক সুগন্ধি মাউথওয়াস পাওয়া যায়, যা দিয়ে কুলকুচি করলে ভালো হয়ে যাবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এগুলো শুধু দুর্গন্ধ ঢেকে রাখে, কিন্তু দন্তরোগ বা অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্ত করে না। এজন্য দিনে দু’বার অহঃর নধপঃবত্রধষ মাউথওয়াস দিয়ে কুলকুচি করুন।
এছাড়াও...
* সকালে ও রাতে খাবার পর দাঁত ৩-৪ মিনিট ধরে ব্রাশ করুন।
* মেডিকেটেড টুথপেস্ট যেমন সবফরঢ়ষঁং, ংধহংড়ফরহব ব্যবহার করতে পারেন।
* দিনে অন্তত একবার দাঁতে ফ্লস করুন।
* ঞড়হমঁব পষবধহবত্ বা ব্রাশ দিয়ে জিহবার ওপরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করুন।
* সিগারেট, তামাকজাতীয় দ্রব্য, জর্দা, পান—এসব পরিহার করুন।
* বেশি করে পানি খান।
* নন-সুগার কেমিক্যালমুক্ত পযবরিহম মঁস খেতে পারেন। এটা আপনার মুখে লালার ক্ষরণ বৃদ্ধি করে আপনার মুখ দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে।
* এছাড়া যদি আপনার ডায়াবেটিস, ক্রনিক সাইনুসাইটিস, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ক্রনিক কফ, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেগুলো অতি দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আশা করি উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন। তাহলে আর দেরি কেন? বিজ্ঞাপনের ভাষায় এখন কণ্ঠ ছাড়ুন জোরে!      


   সুন্দর হাসির পেছনে যদি লুকিয়ে থাকে হলদেটে দাঁত, ভাবুন তো একবার অবস্থাটা। আপনার সব স্মার্টনেস,পরিপাটি সাজসজ্জা নিমিষেই মাটি।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আজকাল বাজারে পাওয়া দাঁত ঝকঝকে করার নানান জিনিসপত্র। আছে ব্যয়বহুলপদ্ধতির নানা রকম চিকিৎসার সুযোগও।
কিন্তু আপনি যদি ঘরে বসেই পেয়ে যান এর সমাধান, তবে কেমন হয়? মুক্তার মত ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য তবে জেনে রাখুন কিছু সহজ সমাধান।
# মাউথওয়াশ, কফি এবং সোডা জাতীয় পানীয় থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত কফি বা সোডা জাতীয় ড্রিঙ্কস পান এবং খুব বেশি মাউথওয়াশ ব্যবহারে দাঁতে হলদে ভাব বেশি হয়। খাবার পরেই চেষ্টা করুন ভাল করে কুলি করে নিতে।
# দিনে অন্তত দুবার অবশ্যই ব্রাশ করুন। এটি দাঁতের প্লাক ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
# মাড়িতে রক্তের ভয়ে অনেকেই ফ্লসিং করতে চান না। কিন্তু সঠিক ভাবে ফ্লসিং করলে দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, হলদেটে ভাব দূরে রাখতে সাহায্য করে।
# দুধের তৈরি খাবার যেমন শক্ত পনির মাড়িকে সুস্থ রাখে। দাতের ঝকঝকে সাদা রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
# খাবার তালিকায় তিলের বীজ, সূর্যমুখীর বীজ রাখুন। এসব বীজ অনেক দরকারি খনিজ পদার্থ, ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিনের ই এর ভাল উৎস।
এছাড়াও এতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম। নিয়মমাফিক সূর্যমুখীর বীজ চিবালে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দুর হয়। এছাড়া তা দাঁতের প্লাক ধ্বংস করে, এবং দাঁতের এনামেল তৈরিতে সহায়তা করে। তিলের বীজেও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকে, যা দাঁতের মাড়ির চারপাসের হাড়কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
# খাবারে রাখুন পর্যাপ্ত পরিমানে শাকসবজি। দেহের আর সব কিছুর মতই দাঁতের যত্নেও এটা অন্যতম শর্ত।
# প্রতি দুই মাসে আপনার ব্রাশটি বদলে ফেলতে ভুলবেন না যেন।
# লেবু আর লবনের মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মেজে দেখুন। আয়নার সামনে তফাৎটা নিজেই দেখতে পাবেন।
# শরীরের চাহিদা মতন পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম গ্রহন করুন।
বাচ্চারা প্রায়ই দাঁত মাজতে চায় না। এমন হলে নিয়ে আসুন তার জন্য মজাদার ফ্লেভারের পেস্ট।
দেশি-বিদেশি এসব পেস্টের মজাদার স্বাদে দেখবেন আপনার বাচ্চা সকাল-রাত দুবেলা মজা করে ব্রাশ করবেই।
# বাচ্চাকে অবশ্যই চকলেট খাবার পরে কুলি করতে শিখান। সম্ভব হলে ব্রাশ। বাচ্চাদের দাঁত প্রথমত মিষ্টি জাতীয় খাবার আর চকলেটের কারনেই নষ্ট হতে শুরু করে।
# নিজে অতিরিক্ত কোমল পানীয় খাবেন না, বাচ্চাকে তো আরও নয়। এসব ড্রিংকসের কারনে দাঁতের সাদাটে ভাব একদম নষ্ট হয়ে যায়।
# বাচ্চাকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম কোন কিছুই খাওয়াবেন না। এটা দাঁতের ভীষণ ক্ষতি করে। মনে রাখবেন দাতের সমস্যা মানেই দাঁত এর সুন্দর ঝকঝকে সাদা রঙটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া।                                    










 দাঁত
জালাল আহমেদ 
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক

দাঁতে পোকা
যা করবেন
দাঁতে কিন্তু সত্যি সত্যি পোকা হয় না, এটি আসলে দাঁতের ক্ষয়রোগ। যাকে বলে ডেন্টাল ক্যারিজ। এ রোগে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হতে পারে। ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন। লবণ-পানিতে বা অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে গার্গল করতে পারেন।
চিকিৎসা
কন্টিকারি গাছের শুকনো ফল ও কর্পূর সমপরিমাণে চূর্ণ করে ব্যবহার করলে ভালো হয়। তামাকপাতার চূর্ণ ও কর্পূর সমপরিমাণে লবঙ্গ তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। বিট লবণ, মরিচ চূর্ণ, সোহাগা, ফিটকিরি একত্রে লবঙ্গ তেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে আরাম পাবেন।

দাঁত দিয়ে রক্তপাত
চিকিৎসা
পেয়ারাপাতা, বাবলাপাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচা করতে পারেন। ফিটকিরি চূর্ণ, লবঙ্গ চূর্ণ ও কর্পূর সমপরিমাণে ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে কুলকুচা করবেন। আতাফলের বীজ ও তেঁতুল বীজ সমপরিমাণে চূর্ণ করে দাঁতের গোড়ায় লাগালে রক্তপাত বন্ধ হবে।

আক্কেল দাঁতে ব্যথা
চিকিৎসা
যবক্ষার ও বিট লবণ সমপরিমাণে মিশিয়ে লবঙ্গ তেলের সঙ্গে ব্যবহার করুন। যবক্ষার ও তুঁতে ভস্ম সমপরিমাণে ব্যবহার করলে উপকার হয়। পলাশক্ষার লবঙ্গ তেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালেও উপকার পাবে

No comments:

Post a Comment